পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বনানী সামরিক কবরস্থানে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজ আমরা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সেনা শহীদ দিবস পালন করলাম। রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী এসেছেন, শহীদ পরিবারের স্বজনরা এসেছেন। বাংলাদেশে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা জীবন দিয়েছেন, তারা চিরতরুণ, চিরভাস্বর। এই পিলখানা হত্যাকাণ্ড শুধু বাংলাদেশের নয়, পৃথিবীর নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের একটি। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল্য উদ্দেশ্য কি ছিল, তা জানার জন্য তৎকালীন সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও, তার ফলাফল আজো প্রকাশিত হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জাতীয় কমিশন গঠন করা হয়, যার রিপোর্ট আমাদের সামনে এসেছে। তবে সে রিপোর্ট বাস্তবায়নে সে সরকার তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

তিনি বলেন, আমরা নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করবো না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যথোপযুক্ত লোক দিয়েই তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল। কমিশনের রিপোর্টে যে সুপারিশগুলো এসেছে, বিচারাধীন যে মামলাগুলো আছে, এই জুডিশিয়াল প্রসেসগুলো সমাপ্ত করা হবে। অন্যান্য সুপারিশগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। শহীদ পরিবারদের বলতে চাই, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার করা হবে, যাতে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আর না ঘটে। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার একটা চেষ্টা ছিল। এ কাজটা তারাই করতে পারে, যারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না।




নতুন আইজিপি হলেন আলী হোসেন ফকির

নতুন আইজিপি হলেন আলী হোসেন ফকির
ছবি সংগৃহীত।

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান মো. আলী হোসেন ফকিরকে নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

জানা যায়, মো. আলী হোসেন ফকির বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের সদস্য। রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগ শাসনামলে তাকে একবার চাকরিচ্যুত করা হয়। বিএনপি আমলে তিনি চাকরি ফিরে পান। এরপর আবার আওয়ামী লীগ আমলে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আইনি প্রক্রিয়ায় এসপি পদমর্যাদায় চাকরি ফিরে পান আলী হোসেন ফকির। এরপর সুপার নিউমারারি ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি পান।

আলী হোসেন ফকিরের বাড়ি বাগেরহাটে। ১৯৯৭ সালে শেখ হাসিনার প্রথম আমলে আলী হোসেন ফকির আওয়ামী রোষানলের শিকার হন। সে বছর তাকে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় চাকরি ফিরে পান।

কর্মজীবনে তিনি চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পান। এসপি হিসেবে একাধিক জেলায় পদায়ন পান। সর্বশেষ ২০০৮ সালে ডিএমপির উত্তরা জোনের ডিসি ছিলেন। এরপর তিনি জাতিসংঘ মিশনে যান। জাতিসংঘ থেকে দেশে ফেরার পর রাজশাহী ডিআইজি অফিসে এসপি হিসেবে সংযুক্ত করা হয় তাকে। সেখানে থাকা অবস্থায় ২০২২ সালে শেখ হাসিনার সরকার তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায়।




মেয়াদ অনুযায়ী ধাপে ধাপে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে : মির্জা ফখরুল

মেয়াদ অনুযায়ী ধাপে ধাপে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে : মির্জা ফখরুল
ছবি সংগৃহীত।

মেয়াদ অনুযায়ী ধাপে ধাপে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে এবং সেই প্রস্তুতি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, দলীয় প্রতীকে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে কি না, তা নির্ধারিত হবে জাতীয় সংসদে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে ৬ সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসকদের দায়িত্বগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে কি না— সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এই সিদ্ধান্ত সংসদে হবে। আর সিটি করপোরেশনগুলোতে যেহেতু সরকারি কর্মকর্তারা দায়িত্বশীল ছিলেন, আমরা মনে করছি যে এখানে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা থাকলে জনগণ সেবা বেশি পাবে এবং ভালোভাবে পাবে। এটা আমাদের বিশ্বাস আরকি। সেই কারণেই আমরা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের এই প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছি। এতে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়বে।

দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়া দরকার কি না, এ বিষয়ে মন্ত্রীর মতামত চাওয়া হলে তিনি বলেন, না, আমার ব্যক্তিগত মতামতের কোনো সুযোগ নেই এখানে। এখানে আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত আছে, সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করব।

দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত কি সংসদের প্রথম অধিবেশনে হবে? মন্ত্রী বলেন, অবশ্যই।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যেসব স্থানীয় সরকারগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সেগুলো থেকেই নির্বাচন শুরু হবে। ঢাকার আগে হওয়ার সম্ভাবনা আছে দুটোতে। আর কয়েকটা আছে, যাদের মেয়াদ শেষ হয়েছে তাদেরটা আগে হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করে কতদিনের ভেতর শেষ করার পরিকল্পনা- এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা এভাবে, এখনই বলা যাবে না। এটা আমরা যখন দেখব একেক করে বাই ফেজ, এটা চলমান প্রক্রিয়া। লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশনও কিন্তু একটা চলমান প্রক্রিয়া। কারও মেয়াদ শেষ হয়, আবার নির্বাচন হয়। ইউনিয়ন পরিষদেও তাই হয়, উপজেলাতেও তাই হয়। সুতরাং ইট ইজ অ্যা কন্টিনিউয়াস প্রসেস।

এর আগে এলজিআরডি মন্ত্রীর কাছে সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা যোগদানপত্র জমা দেন।

মশা নিধন, যানজট, রাস্তাঘাট মেরামতসহ জনদুর্ভোগ এড়াতে কাজ করার অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন নতুন নিয়োগ পাওয়া ৬ প্রশাসক।

তারা জানান, জনগণের সেবা নিশ্চিত করাই তাদের অঙ্গীকার। দ্রুত কাজ করার জন্য ৬০ দিনের একটা কর্মসূচি নেবেন নতুন প্রশাসকরা।




১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করবেন তারেক রহমান

১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করবেন তারেক রহমান
ছবি সংগৃহীত।

আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানান।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, আজকে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের উপ-কমিটির একটি সভা হয়েছে এবং এখানে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আপনারা জানেন, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উপকমিটি ছিল। মন্ত্রিপরিষদের সেই উপকমিটির সুপারিশের আলোকে আজ ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ে পাইলটিংয়ের একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ প্রকল্পের পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এই কার্যক্রমের জন্য আমরা এই মুহূর্তে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগের ১৪টি উপজেলাকে নির্ধারণ করেছি। এই ১৪টি উপজেলার প্রতিটি থেকে একটি করে ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে সর্বজনীনভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। ইনশাআল্লাহ, ১০ মার্চ একযোগে এই ১৪টি উপজেলায় কার্যক্রমটি শুরু হবে। এই প্রক্রিয়াটি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং পর্যায়ক্রমে তা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে একটা সময়ে বাংলাদেশের যারা হতদরিদ্র, দরিদ্র এবং নিম্নবিত্ত এই তিন শ্রেণির সুবিধাভোগী আমাদের যে মা-বোন আছেন, তারাই এটার সুবিধা পাবেন।

তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। একজন নারী স্বাবলম্বী হলে একটি পরিবার স্বাবলম্বী হয় এবং এর মাধ্যমে আগামী প্রজন্মও স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। এটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রকল্পের ওপর কাজ করেছেন। আজ তার সভাপতিত্বে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে। এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা প্রতি মাসে ইনশাআল্লাহ দুই হাজার পাঁচশত (২,৫০০) টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বৈষম্য করা হবে না। এটি একটি সর্বজনীন (ইউনিভার্সাল) কার্ড হবে এবং বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমি আপনাদের সবার সহযোগিতা কামনা করছি। আপনাদের সহযোগিতায় আমরা আশা করছি যে, আগামী চার মাসের মধ্যে এই পাইলটিং কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হবে। পরবর্তীতে সারা বাংলাদেশে এটি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা হবে এবং প্রতিটি উপজেলা এর আওতায় আসবে। শুরুতে হয়ত পুরো উপজেলা একসঙ্গে কাভার করা সম্ভব হবে না; আমরা প্রথমে একটি ওয়ার্ড, তারপর একটি ইউনিয়ন—এভাবে পর্যায়ক্রমে পুরো উপজেলা এবং সবশেষে সারা বাংলাদেশে এই সেবা পৌঁছে দেব।

তিনি আরও বলেন, সুবিধাভোগীদের সরাসরি বাছাই করা হচ্ছে না, বরং তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘরে ঘরে গিয়ে ‘ডোর টু ডোর’ পদ্ধতিতে এই তথ্য সংগ্রহ করা হবে। কোনো অবস্থাতেই ঘরে বসে তালিকা করা হবে না; সরাসরি মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এটি সম্পন্ন করা হবে এবং এতে কারো প্রতি বৈষম্য করা হবে না। এই সরকারি কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে উপজেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে শক্তিশালী কমিটি থাকবে। একইভাবে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়েও সরকারি কর্মচারীদের সমন্বয়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হবে। প্রতিটি উপজেলার তদারকির দায়িত্বে থাকবেন একজন করে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা। তথ্যগত ভুলভ্রান্তি কমিয়ে আনতে এই প্রক্রিয়ায় দুই স্তরের ‘চেকিং ও রি-চেকিং’ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।